মেনু নির্বাচন করুন
নোটিশ

ফুলবাড়ী ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের সেবায় খুশি জনগণ

ফাইল


ছবি


Publish Date

২০১৯-০৪-২৮

Archive Date

২০১৯-১০-৩০

বিস্তারিত

মাহবুবুর রহমান চৌধুরী:: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ৩নং ফুলবাড়ী ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে সেবা নিয়ে বের হওয়া কয়েকজনকে প্রশ্ন করা হয় সেবা সম্পর্কে তাদের মন্তব্য কি? সবাই প্রায় অভিন্ন সুরে বলেন ‘আমরা খুশি’।উপজেলার  হেতিমগঞ্জ মাইজভাগ এলাকায় এ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের অবস্থান। ভবনের সামনে নানারকম ফুলের বাগান। উত্তর-পশ্চিম পাশে রয়েছে ইউনিয়ন ভুমি অফিস ও পূর্ব পাশে  ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র। দক্ষিন-পূর্ব দিকে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক। ইংরেজী এল আকৃতির আদলে নির্মিত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সর্ববামে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। গোলাপগঞ্জ উপজেলার মডেল ইউনিয়ন হিসেবে ইতিমধ্যে পরিচিতি পেয়েছে এই ইউনিয়ন। নাগরিক সেবার জন্য ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারটি উপজেলা উদ্ভাবনী মেলা ২০১৫, ডিজিটাল মেলা ও ইন্টারনেট সপ্তাহ ২০১৫ তে অংশগ্রহন করে ৩য় পুরষ্কার পেয়েছে। সম্প্রতি  সরেজমিন  গিয়ে দেখা যায় ডিজিটাল সেন্টারের প্রধান উদ্যোক্তা  মনসুর হোসেন মুন্না কয়েকজন নারী ও পুরুষকে তাদের কাংখিত সেবা দিতে ব্যস্থ সময় কাঠাচ্ছেন। তিনি একাধারে উপজেলা উদ্যোক্তা ফোরামের সাধারন সম্পাদক। তাঁর সেন্টারের মহিলা উদ্যোক্তা হাবিবা সুলতানা জরুরী কাজে বাইরে থাকায় সেবা নিতে আসা মহিলাদেরকেও তিনি নানা তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করছেন।সেবা গ্রহীতাদের বেশীর ভাগই জন্ম / মৃত্যু সনদ, উত্তারীধাকার সনদ , ভূমির পর্চা আবেদন, পাসপোর্ট আবেদন, বিদেশে গমনের রেজিষ্ট্রশন ও  ভিসা চেকিং,  চাকরির আবেদনপত্র সম্পর্কিত সেবা নিতে আসেন। সোমবার সেবা নিতে আসা  ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা স্বপ্না বেগম ও সাজেদা ইয়াসমিন জানান, তাদের জন্ম সনদে ভুল সংশোধন করতে এসেছেন। ডিজিটাল সেন্টারের অন্যান্য সেবা সম্পর্কে অবগত আছেন কিনা জানতে চাইলে তাদের একজন জানান  অনলাইনে বিভিন্ন পণ্য কেনা-বেচা করা যায় এখান থেকে। তাদের কথার সূত্র ধরে উদ্যোক্তা মনসুর আহমদ জানান বেসরকারী দুটি প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট হিসেবে ডিজিটাল সেন্টার থেকে এসব সেবা প্রদান করা হয়। এদিকে তমা নামের এক শিশুর মা এসেছেন বাচ্চার জন্ম তারিখ সংশোধন করতে কিন্তু তাকে সেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনে প্রতিকারের পথ বাতলে দেন মনসুর আহমদ। এই মহিলাকে কেন সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা? জানতে চাইলে তিনি জানান,  শিশুর মূল  ডিজিটাল জন্ম সনদে মা নিজেই কাটাকুটি করেছেন এবং  তারিখ সংশোধনের জন্য আবেদনের স্বপক্ষে পর্যাপ্ত ডকুমেন্ট দিতে না পারায়  তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানার পর ঐ মহিলা যথাযথ ডকুমেন্ট নিয়ে পূণরায় আসবেন বলে জানান।প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন নাগরিককে সেবা দেওয়া হয় এই ডিজিটাল সেন্টার থেকে। ২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর থেকে এই ডিজিটাল সেন্টারের সেবা প্রদান শুরু হওয়ার পর থেকে কয়েক হাজার নাগরিক সেবা পেয়ে উপকৃত হয়েছেন।  বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন সূত্রে জানাগেছে ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ৪৩টি গ্রামে মোট জনসংখ্যা ৩৭,৬৪৬ জন (পুরুষ ১৯,৬৮৫ ও মহিলা ১৭,৯৬১ জন) এদের মধ্যে মোট ভোটার (বর্তমান হালানাগাদ তালিকা ব্যাতিত) ১৭ হাজার ৩শ ৭৬ জন। সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড. নাজমুন আরা খানুম গত বছরের ১২জুন  ফুলবাড়ী ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার পরিদর্শনকালে পরিদর্শন বইয়ের  মন্তব্য কলামে উল্লেখ করেন  ‘ফুলবাড়ী ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের  পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম এবং উদ্যোক্তারা আন্তরিকভাবে সেবা প্রদান করছেন বলে মনে হয়েছে।এদিকে আলাউদ্দিন নামে পঞ্চাশোর্ধ এক নাগরিক জানান, ফটোস্ট্যাট মেশিন না থাকায় প্রায় ৪ কিলোমিটার দুরের বাজারে গিয়ে কাজ সারতে হয়।  আরেক তরুণ জানান, ছবি তোলার জন্য ডিজিটাল ক্যামেরা এখানে নেই,  ডিজিটাল ক্যামেরা ও ফটোস্ট্যাট মেশিন থাকা জরুরী। পূর্ণাঙ্গ সেবা দিতে  এছাড়া আর কি প্রয়োজন? জানতে চাইলে উদ্যোক্তা জানান , বিভিন্ন আন্তনগর পরিবহনের টিকেট বিক্রয়ের ব্যবস্থা, কুরিয়ার সার্ভিস ইত্যাদি চালু করতে পারলে আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি নাগরিকরা উপকৃত হবে। এছাড়া সরকারী বিভিন্ন প্রশিক্ষন কর্মসূচী ও সেমিনারে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের প্রয়োজন হয়। ইন্টারনেট ও সার্ভারের গতি  নিয়েও অভিযোগ রয়েছে । অনেক সময় দেখা যায় দিনে জন্ম নিবন্ধন সার্ভারে প্রবেশ করা যায়না ফলে রাতে কাজ করতে হয়। বিশেষ করে ভোটার তলিকা হালনাগাদ কার্য্যক্রম চলা অবস্থায় এই সমস্যা প্রকট হয়ে যায়।ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান ফয়ছল জানান, নাগরিকদের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনা নিয়ে যত দ্রæত সম্ভব একটি ফটোস্ট্যাট মেশিন, ডিজিটাল ক্যামেরা, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর বরাদ্দের জন্য উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম জানান, উপজেলার  ডিজিটাল সেন্টার গুলো আরো জনবান্ধব করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম চেয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে চাহিদা পত্র পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান  এলজিএসপি প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে উপজেলার সকল ডিজিটাল সেন্টারে ফটোস্ট্যাট মেশিন সরবরাহ করা হবে।

http://banglavashi.com/index.php/news/article/11229

https://beanibazarbarta24.com/2018/02/15975/


Share with :

Facebook Twitter